• মঙ্গলবার , ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ৩১ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমি একজন স্বৈরশাসক, মাঝে মাঝে এমন স্বৈরশাসকের প্রয়োজন হয়

আমি একজন স্বৈরশাসক, মাঝে মাঝে এমন স্বৈরশাসকের প্রয়োজন হয়

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৪৯ ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ)–এর বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যের পর নিজেকে ‘স্বৈরশাসক’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (২১ জানুয়ারি) দাভোসে শীর্ষ নির্বাহীদের সম্মানে আয়োজিত এক নৈশভোজে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বমঞ্চে তাকে প্রায়ই ভয়াবহ একনায়ক হিসেবে চিত্রিত করা হয়— এবং সেই অভিযোগ তিনি অস্বীকারও করেননি।

ট্রাম্প বলেন, “আমরা একটি ভালো ভাষণ দিয়েছি এবং দারুণ সাড়া পেয়েছি। সাধারণত তারা বলে আমি একজন ভয়ংকর একনায়ক। হ্যাঁ, আমি একজন স্বৈরশাসক। কিন্তু মাঝে মাঝে আপনাদের একজন একনায়কের প্রয়োজন হয়।” তার এই বক্তব্য মুহূর্তেই দাভোস সম্মেলনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন গ্রিনল্যান্ড দখল ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসন কানাডা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও অবস্থান ইউরোপীয় রাজনীতিকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন, তার নীতিগত বক্তব্য কোনো ডানপন্থী বা বামপন্থী আদর্শের ওপর নয়— বরং ‘কমন সেন্স’ বা সাধারণ জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন।

উল্লেখ্য, ট্রাম্প এই প্রথম নিজেকে একনায়কের সঙ্গে তুলনা করলেন— এমন নয়। এর আগেও ২০২৫ সালের আগস্টে ওয়াশিংটনে জাতীয় পতাকা পোড়ানো ও ফেডারেল দমন-পীড়ন প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, অনেক আমেরিকানই একজন একনায়ক নেতা পছন্দ করতে পারেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, “অনেকে বলছে, আমরা হয়তো একজন একনায়কই চাই। তবে আমি একনায়ক হতে চাই না— আমি কেবল অসাধারণ সাধারণ জ্ঞানসম্পন্ন একজন বুদ্ধিমান মানুষ।”

বিশ্বের বিভিন্ন স্বৈরশাসকের প্রতি ট্রাম্পের প্রকাশ্য প্রশংসাও তার এই ‘একনায়কসুলভ’ ভাবমূর্তিকে আরও জোরালো করেছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে তিনি একাধিকবার ‘খুবই বুদ্ধিমান’ ও ‘শক্তিশালী নেতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। এমনকি ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের প্রশংসা করে একে ‘চমৎকার’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।

এছাড়া চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে ‘অত্যন্ত সম্মানিত’ এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনকে ‘কঠিন মানুষ’ বলে বর্ণনা করেছেন ট্রাম্প। দাভোস সম্মেলনেও তার বক্তব্যে ন্যাটো মিত্রদের প্রতি চাপ এবং ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত স্পষ্ট ছিল, যা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ার আভাস দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক শক্তি ব্যবহার করবেন না এবং বিষয়টি নিয়ে আপাতত শুল্ক আরোপের হুমকি থেকেও সরে এসেছেন। বরং আর্কটিক অঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ নিয়ে একটি কাঠামোগত সমঝোতার পথ খুঁজছেন বলে জানান তিনি।

ট্রাম্পের সুর কিছুটা নরম হওয়ায় ইউরোপ ও কানাডার মধ্যে সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও, তার ‘স্বৈরশাসক’ মন্তব্য এবং অনিশ্চিত পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বে এখনো গভীর সংশয় কাটেনি। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ধরনের বক্তব্য ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

বিজ্ঞাপন