‘বন্দে মাতরম’ বিতর্কে মোদি চুপ, রাহুল গান্ধীর প্রশ্নে উত্তরে কোণঠাসা


প্রকাশিত: ১১:০৮ ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫
ভারতের লোকসভায় সম্প্রতি ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক দেখা দিয়েছে। বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে মুখোমুখি চ্যালেঞ্জ জানালেও সরকার কোনো উত্তর দেননি। ফলে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার দল বিজেপি বিতর্কে কোণঠাসা অবস্থায় পড়েছে।
লোকসভা শীতকালীন অধিবেশনের শুরু থেকেই বিরোধীরা নির্বাচন কমিশনের কাজ, ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন পদ্ধতি (এসআইআর) এবং নির্বাচনী সংস্কারের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার দাবি তুলেছিল। সরকারের পরিকল্পনা ছিল জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০তম বর্ষ উদ্যাপন উপলক্ষে আলোচনা পরিচালনা করা। তবে বিরোধীরা নিজেদের দাবি মানাতে বাধ্য করলে সরকার আলোচনার বিষয়বস্তু ‘নির্বাচনী সংস্কার’ পর্যন্ত সম্প্রসারণ করে।
বিরোধীরা অভিযোগ করেছেন, স্বাধীনতার সময় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) কোনো ইতিবাচক ভূমিকা গ্রহণ করেনি, বরং ব্রিটিশ শাসকদের সহায়তা করেছে। দীর্ঘদিন ধরে আরএসএস শাখা ও সদর দপ্তরেও জাতীয় পতাকা উত্তোলন বা ‘বন্দে মাতরম’ গান উচ্চারণ করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী মোদি যখন ‘বন্দে মাতরম’-এর স্রষ্টা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘বঙ্কিমদা’, বিপ্লবী পুলিনবিহারী দাসকে ‘পুলিন বিকাশ’ ও সূর্য সেনকে ‘মাস্টার’ বলে অভিহিত করেন, তা বিরোধীদের মতে ইতিহাসের সাথে হাস্যাস্পদ ও অমুল্য বিভ্রান্তিকর।
রাহুল গান্ধী লোকসভায় সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, নির্বাচন কমিশন ও ভোট প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হচ্ছে। তিন সদস্যের কমিশন কমিটিতে বিরোধী নেতার কোনো ভূমিকা নেই। কমিশন–সংক্রান্ত কাজের জন্য কমিশনের সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা যাবে না। এছাড়া ভোটের ৪৫ দিনের পরে সিসিটিভি ফুটেজ নষ্ট করার নতুন নিয়ম, এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে ‘মেশিন রিডঅ্যাবল’ ভোটার তালিকা না দেওয়ার নীতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
রাহুলের অভিযোগের জবাব দিতে অমিত শাহ চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেননি। বরং তিনি পুরোনো বিরোধীদের উদাহরণ উল্লেখ করে বলেন, জওহরলাল নেহরু, ইন্দিরা গান্ধী ও সোনিয়া গান্ধীরা ভোট চুরি করে ক্ষমতায় পৌঁছেছেন।
বিরোধীরা জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের আগে ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে বিজেপি সরব হয়েছে, কিন্তু মোদির ভাষণ এবং বিতর্কের সময় তার মন্তব্যগুলো দলের জন্য হিতের বিপরীত প্রমাণিত হয়েছে।
শেষ পর্যন্ত বিতর্কে দেখা যায়, বিরোধী দলগুলোর একাধিক নেতা কংগ্রেসের পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান। তারা ইতিহাস, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং আরএসএসের ভূমিকা তুলে ধরে ভোটাধিকার ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার ওপর জোর দিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
সর্বোচ্চ পঠিত - আন্তর্জাতিক
- কারাগারেই মায়ের আদ্যশ্রাদ্ধ করতে চান চিন্ময় কৃষ্ণ দাস
- বেক্সিমকো ফার্মার পর্ষদ ছাড়ছেন সালমান এফ রহমান
- কাদের-সাদ্দামসহ ৭ আওয়ামী নেতার মামলার রায় আজ
- ফ্রান্স দলে বিভক্তির শঙ্কা, এমবাপে-দেম্বেলেকে ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা
- তুরস্ক ভ্রমণে এসে ইসলাম গ্রহণ করলেন দক্ষিণ কোরীয় নারী
- শহীদ দুই সেনাসদস্যের পরিবারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, দেওয়া হলো আর্থিক সহায়তা
- আকরাম খান জীবনী: যে জয়ে বদলে গিয়েছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট
- অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি পেতেই জামায়াত জোটে আসিফ: রাশেদ খাঁন
- দেশে ফিরেই আওয়ামী লীগকে লজ্জার রাজনীতি না করার বার্তা বাঁধনের
- জামানত ছাড়াই ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক, পাবেন যেসব তরুণ উদ্যোক্তা
- রাজ্জাক দেওয়ান স্মরণে গাইবেন বগা তালেবসহ ১৫ শিল্পী
- মক্কা প্যাক্টে যোগদান বাংলাদেশের নিজস্ব বিষয়: জামায়াত আমির
- ভারতে ‘ভূত আতঙ্কে’ হোস্টেল ছাড়ল ৬০০ শিক্ষার্থী, চিকিৎসকদের ভিন্ন ব্যাখ্যা
- ফের ‘জান্নাত’ নিয়ে আসছেন ইমরান হাশমি, আসছে ‘জান্নাত ৩’
- ডা. তাসনিম জারা: শিক্ষা, ক্যারিয়ার ও রাজনীতি
- হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে ইরান
- এনবিআর ভেঙে দুটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী
- পাকিস্তানের হাসপাতালে এসি বিস্ফোরণ, ১৫ নবজাতকের মৃত্যু
- আখ চাষে বদলাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য, খুলছে বাড়তি আয়ের পথ
- আওয়ামী লীগের বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে জামায়াত: রাশেদ খান




