• বুধবার , ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ৩১ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘বন্দে মাতরম’ বিতর্কে মোদি চুপ, রাহুল গান্ধীর প্রশ্নে উত্তরে কোণঠাসা

‘বন্দে মাতরম’ বিতর্কে মোদি চুপ, রাহুল গান্ধীর প্রশ্নে উত্তরে কোণঠাসা

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:০৮ ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫

ভারতের লোকসভায় সম্প্রতি ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক দেখা দিয়েছে। বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে মুখোমুখি চ্যালেঞ্জ জানালেও সরকার কোনো উত্তর দেননি। ফলে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার দল বিজেপি বিতর্কে কোণঠাসা অবস্থায় পড়েছে।

লোকসভা শীতকালীন অধিবেশনের শুরু থেকেই বিরোধীরা নির্বাচন কমিশনের কাজ, ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন পদ্ধতি (এসআইআর) এবং নির্বাচনী সংস্কারের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার দাবি তুলেছিল। সরকারের পরিকল্পনা ছিল জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০তম বর্ষ উদ্‌যাপন উপলক্ষে আলোচনা পরিচালনা করা। তবে বিরোধীরা নিজেদের দাবি মানাতে বাধ্য করলে সরকার আলোচনার বিষয়বস্তু ‘নির্বাচনী সংস্কার’ পর্যন্ত সম্প্রসারণ করে।

বিরোধীরা অভিযোগ করেছেন, স্বাধীনতার সময় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) কোনো ইতিবাচক ভূমিকা গ্রহণ করেনি, বরং ব্রিটিশ শাসকদের সহায়তা করেছে। দীর্ঘদিন ধরে আরএসএস শাখা ও সদর দপ্তরেও জাতীয় পতাকা উত্তোলন বা ‘বন্দে মাতরম’ গান উচ্চারণ করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী মোদি যখন ‘বন্দে মাতরম’-এর স্রষ্টা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘বঙ্কিমদা’, বিপ্লবী পুলিনবিহারী দাসকে ‘পুলিন বিকাশ’ ও সূর্য সেনকে ‘মাস্টার’ বলে অভিহিত করেন, তা বিরোধীদের মতে ইতিহাসের সাথে হাস্যাস্পদ ও অমুল্য বিভ্রান্তিকর।

রাহুল গান্ধী লোকসভায় সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, নির্বাচন কমিশন ও ভোট প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হচ্ছে। তিন সদস্যের কমিশন কমিটিতে বিরোধী নেতার কোনো ভূমিকা নেই। কমিশন–সংক্রান্ত কাজের জন্য কমিশনের সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা যাবে না। এছাড়া ভোটের ৪৫ দিনের পরে সিসিটিভি ফুটেজ নষ্ট করার নতুন নিয়ম, এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে ‘মেশিন রিডঅ্যাবল’ ভোটার তালিকা না দেওয়ার নীতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

রাহুলের অভিযোগের জবাব দিতে অমিত শাহ চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেননি। বরং তিনি পুরোনো বিরোধীদের উদাহরণ উল্লেখ করে বলেন, জওহরলাল নেহরু, ইন্দিরা গান্ধী ও সোনিয়া গান্ধীরা ভোট চুরি করে ক্ষমতায় পৌঁছেছেন।

বিরোধীরা জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের আগে ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে বিজেপি সরব হয়েছে, কিন্তু মোদির ভাষণ এবং বিতর্কের সময় তার মন্তব্যগুলো দলের জন্য হিতের বিপরীত প্রমাণিত হয়েছে।

শেষ পর্যন্ত বিতর্কে দেখা যায়, বিরোধী দলগুলোর একাধিক নেতা কংগ্রেসের পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান। তারা ইতিহাস, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং আরএসএসের ভূমিকা তুলে ধরে ভোটাধিকার ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার ওপর জোর দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন