তালেবান নিশ্চিহ্ন করতে আমাদের সামান্যই যথেষ্ট - খাজা আসিফ


প্রকাশিত: ০৪:৩৩ ৩০ অক্টোবর ২০২৫
ইস্তাম্বুলে শান্তি আলোচনার ব্যর্থতার পর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারকে সম্পূর্ণভাবে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার হুমকি দিয়েছেন। এই ঘোষণার ফলে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, ইস্তাম্বুলে হওয়া যুদ্ধবিরতি আলোচনা কোনো কার্যকর সমাধান ছাড়াই শেষ হয়েছে। চলতি মাসের প্রাণঘাতী সংঘর্ষের প্রেক্ষিতে এটি আঞ্চলিক শান্তির জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পাকিস্তানের এক কূটনৈতিক সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, আফগানিস্তানের ভেতর থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পাকিস্তানের সীমান্ত এলাকায় হামলা চালাচ্ছে। এই অভিযোগ নিয়েই বৈঠকে মতপার্থক্য দেখা দেয় এবং অবশেষে আলোচনা ভেস্তে যায়।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, “তালেবানি শাসনকে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন করতে আমাদের সামান্য সামরিক শক্তি যথেষ্ট। আমরা তাদের আবারও গুহায় ফিরে যেতে বাধ্য করব।”
পাকিস্তানের এই মন্তব্যের বিষয়ে আফগানিস্তান বা তালেবান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
২০২১ সালে তালেবান কাবুলের ক্ষমতা দখলের পর, ১১ অক্টোবর আফগান–পাক সীমান্তে ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটেছিল। দুই দেশই একে অপরের সীমান্তচৌকি দখল ও ধ্বংসের অভিযোগ জানিয়েছে। তালেবান অভিযোগ করে ৮ অক্টোবর কাবুল ও পাকটিকা প্রদেশে পাকিস্তান বিমান হামলা চালিয়েছে। প্রতিশোধে আফগান বাহিনী ১১ অক্টোবর পাল্টা হামলা চালায়, এতে পাকিস্তান সেনাদের মৃত্যু ও তালেবান যোদ্ধাদের বড় ক্ষতি হয়।
চার দিনের সংঘর্ষের পর ১৫ অক্টোবর উভয় দেশ ৪৮ ঘণ্টার জন্য সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। ১৯ অক্টোবর দোহায় কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আলোচনায় বসে দুই দেশ। ২৫ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় ইস্তাম্বুলে তিন দিনের বৈঠক শুরু হলেও কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, “আলোচনার মূল উদ্দেশ্য থেকে আফগান পক্ষ বারবার সরে যাচ্ছিল। তারা সূক্ষ্ম কৌশল অবলম্বন করে দোষারোপের খেলায় মেতে উঠেছে। এভাবে কোনো কার্যকর সমাধান সম্ভব নয়।”
পাকিস্তানের একটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, আফগান প্রতিনিধি দল তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)–এর বিষয়ে লিখিত প্রতিশ্রুতি দিতে অনিচ্ছুক ছিল। বিশেষ করে পাকিস্তানবিরোধী কর্মকাণ্ডে টিটিপিকে সমর্থন বন্ধের বিষয়ে তারা নীরব ছিল।
দুই দেশের সম্পর্কের মূল সমস্যা হলো সীমান্ত নিরাপত্তা। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তান তাদের মাটিতে টিটিপি–এর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিচ্ছে, যা কাবুল সরকার সব সময় অস্বীকার করে এসেছে।
উত্তেজনা এবং পারস্পরিক অভিযোগের এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক শান্তি এবং সীমান্ত স্থিতিশীলতার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সর্বোচ্চ পঠিত - আন্তর্জাতিক
- কারাগারেই মায়ের আদ্যশ্রাদ্ধ করতে চান চিন্ময় কৃষ্ণ দাস
- বেক্সিমকো ফার্মার পর্ষদ ছাড়ছেন সালমান এফ রহমান
- কাদের-সাদ্দামসহ ৭ আওয়ামী নেতার মামলার রায় আজ
- ফ্রান্স দলে বিভক্তির শঙ্কা, এমবাপে-দেম্বেলেকে ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা
- তুরস্ক ভ্রমণে এসে ইসলাম গ্রহণ করলেন দক্ষিণ কোরীয় নারী
- শহীদ দুই সেনাসদস্যের পরিবারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, দেওয়া হলো আর্থিক সহায়তা
- আকরাম খান জীবনী: যে জয়ে বদলে গিয়েছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট
- অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি পেতেই জামায়াত জোটে আসিফ: রাশেদ খাঁন
- দেশে ফিরেই আওয়ামী লীগকে লজ্জার রাজনীতি না করার বার্তা বাঁধনের
- জামানত ছাড়াই ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক, পাবেন যেসব তরুণ উদ্যোক্তা
- রাজ্জাক দেওয়ান স্মরণে গাইবেন বগা তালেবসহ ১৫ শিল্পী
- মক্কা প্যাক্টে যোগদান বাংলাদেশের নিজস্ব বিষয়: জামায়াত আমির
- ভারতে ‘ভূত আতঙ্কে’ হোস্টেল ছাড়ল ৬০০ শিক্ষার্থী, চিকিৎসকদের ভিন্ন ব্যাখ্যা
- ফের ‘জান্নাত’ নিয়ে আসছেন ইমরান হাশমি, আসছে ‘জান্নাত ৩’
- হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে ইরান
- ডা. তাসনিম জারা: শিক্ষা, ক্যারিয়ার ও রাজনীতি
- আখ চাষে বদলাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য, খুলছে বাড়তি আয়ের পথ
- এনবিআর ভেঙে দুটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী
- পাকিস্তানের হাসপাতালে এসি বিস্ফোরণ, ১৫ নবজাতকের মৃত্যু
- আওয়ামী লীগের বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে জামায়াত: রাশেদ খান




