• মঙ্গলবার , ১৪ জুলাই, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংবিধান, গণভোট ও নির্বাচন নিয়ে সরকারের অবস্থানের সমালোচনায় শফিকুর রহমান

সংবিধান, গণভোট ও নির্বাচন নিয়ে সরকারের অবস্থানের সমালোচনায় শফিকুর রহমান

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:৫৭ ১৪ জুলাই ২০২৬

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকার যদি সংবিধানে গণভোটের বিধান না থাকার যুক্তিতে গণভোটের ফল বাস্তবায়ন না করে, তাহলে একই যুক্তিতে ২০২৬ সালে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনেরও সাংবিধানিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তার দাবি, পূর্ববর্তী সাংবিধানিক কাঠামো অনুসারে পরবর্তী নির্বাচনের সময়সূচি ২০২৯ সালের সঙ্গে সম্পর্কিত; তাই কেবল গণভোটের ক্ষেত্রেই সংবিধানের বিধানকে সামনে আনা যৌক্তিক নয়।

সোমবার রাতে জাতীয় সংসদ থেকে বিরোধী দলের ওয়াকআউটের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যক্ষ মতামতই রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ ভিত্তি হওয়া উচিত। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেই একই রাজনৈতিক বাস্তবতায় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলে একটি প্রক্রিয়াকে গ্রহণ করে অন্যটিকে অস্বীকার করা দ্বৈত মানদণ্ডের পরিচয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

শফিকুর রহমান আরও বলেন, সরকার গঠনের ক্ষেত্রে যে ভোটের ফলকে বৈধ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে, তার তুলনায় গণভোটে আরও বড় পরিসরের জনসমর্থন পাওয়া সত্ত্বেও সেই রায় বাস্তবায়নে অনীহা দেখা যাচ্ছে। দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার স্বার্থে বিরোধী দল নির্বাচনের ফল মেনে নিয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে একইভাবে জনগণের বৃহত্তর মতামতকেও সম্মান জানানো উচিত বলে তার দাবি।

তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সরকার তা পূরণ করেনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা থাকলেও সরকারি দলের সদস্যরা কেবল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এর মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

বিরোধীদলীয় নেতা জানান, গণভোটের ফল কার্যকর করার দাবিতে তারা সংসদের ভেতরে এবং রাজপথ—উভয় ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন। অতীতের তত্ত্বাবধায়ক সরকার আন্দোলনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, জনমতের চাপে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের নজির বাংলাদেশে রয়েছে। তাই বর্তমান সরকারকেও বিলম্ব না করে জনগণের সঙ্গে করা অঙ্গীকার বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর মতামত উপেক্ষা করা হলে বিরোধী দল নীরব থাকবে না। সংসদ থেকে ওয়াকআউটকে তিনি সেই প্রতিবাদের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দেন।

এদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেনও সাংবাদিকদের বলেন, গণভোটের ফলাফলের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি তারা শুরু থেকেই জানিয়ে আসছেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে সংবিধান সংস্কারের পরিবর্তে সংশোধনকেন্দ্রিক নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার প্রতি বিরোধী জোটের নৈতিক সমর্থন নেই। এই কারণেই তারা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছেন বলে তিনি জানান।

ঘটনাটি দেশের চলমান সাংবিধানিক সংস্কার, গণভোটের ফল বাস্তবায়ন এবং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

বিজ্ঞাপন