• রবিবার , ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ২৯ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খামেনি পরিবারকে নির্মূলের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের!

খামেনি পরিবারকে নির্মূলের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের!

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫:১৩ ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি মোজতাবা খামেনিকে লক্ষ্য করে সামরিক পদক্ষেপসহ একাধিক কড়া বিকল্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর কাছে উপস্থাপন করেছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম Axios–এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান যদি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে বন্ধের বিষয়ে ওয়াশিংটনের কঠোর শর্তে রাজি না হয়, তবে পরিস্থিতি দ্রুত সামরিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ এক উপদেষ্টার বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পেন্টাগন সম্ভাব্য প্রতিটি পরিস্থিতি মাথায় রেখে বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি রেখেছে। এর মধ্যে ইরানের শীর্ষ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপের কথাও রয়েছে। যদিও এমন পদক্ষেপের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি, তবুও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি সামরিক উপস্থিতি এবং চলমান উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওয়াশিংটন এমন একটি সমঝোতার সম্ভাবনা বিবেচনা করছে যেখানে ইরান সীমিত মাত্রায় পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যেতে পারবে, তবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো পথ খোলা রাখা যাবে না। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তেহরানের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য প্রস্তাব না এলে ট্রাম্প প্রশাসনের ধৈর্য দ্রুত শেষ হয়ে যেতে পারে। এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প এমন চুক্তিই চাইবেন, যা তিনি দেশে রাজনৈতিকভাবে সাফল্য হিসেবে তুলে ধরতে পারবেন।

অন্যদিকে, ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলো কূটনৈতিক আলোচনার চেয়ে সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনাই বেশি দেখছে। ইসরায়েলি সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও বিভিন্ন সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। যদিও তাৎক্ষণিক হামলার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই, তবে পরিস্থিতি যে অস্থির—তা স্পষ্ট।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তারা একটি লিখিত প্রস্তাব প্রস্তুত করছেন যা শিগগিরই উপস্থাপন করা হবে। তার দাবি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কেবল শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই ব্যবহৃত হবে—এ ব্যাপারে প্রযুক্তিগত নিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার দিতে তেহরান প্রস্তুত।

সব মিলিয়ে, বল এখন ইরানের কোর্টে—এমন বার্তাই দিচ্ছে ওয়াশিংটন। তেহরানের প্রস্তাব কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, তার ওপরই নির্ভর করছে আলোচনার পথ সুগম হবে নাকি অঞ্চলটি আরও বড় সংঘাতের দিকে এগোবে।
সূত্র: এনডিটিভি।

বিজ্ঞাপন