• মঙ্গলবার , ১৪ জুলাই, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডাকসু থেকে জকসু, ১২ তারিখে ‘নতুন ইতিহাস’-এর ঘোষণা: চট্টগ্রামে জামায়াত আমিরের দৃপ্ত বার্তা

ডাকসু থেকে জকসু, ১২ তারিখে ‘নতুন ইতিহাস’-এর ঘোষণা: চট্টগ্রামে জামায়াত আমিরের দৃপ্ত বার্তা

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪:৪৫ ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) থেকে শুরু হয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (জকসু) পর্যন্ত ছাত্ররাজনীতির সাম্প্রতিক ধারাকে উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “ডাকসু দিয়ে শুরু, জকসুতে এসে আপাতত থেমেছে। আগামী ১২ তারিখ ইতিহাস সৃষ্টি হবে।” তিনি দাবি করেন, শিক্ষাঙ্গন থেকে যে পরিবর্তনের বার্তা এসেছে, তা জাতীয় রাজনীতিতেও প্রতিফলিত হবে।

রোববার বিকেলে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এ জনসভায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতি ছিল। বক্তব্যের শুরুতে স্থানীয় ভাষায় উপস্থিত জনতাকে সম্ভাষণ জানিয়ে তিনি বলেন, “অনারা গম আছন নি (আপনারা কি ভালো আছেন)?”—যাতে মুহূর্তেই জনসভা প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

ভোটাধিকার প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, “ফ্যাসিবাদের স্লোগান ছিল—আমার ভোট আমি দেবো, তোমার ভোটও আমি দেবো। সেই দিন শেষ। আমার ভোট আমি দেবো, তোমারটা তুমি দাও। কিন্তু আমার ভোট কেড়ে নিতে আসলে হাত গুঁড়িয়ে দেবো।” তাঁর এই বক্তব্যে ভোটের অধিকার রক্ষার দৃঢ় অবস্থান স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

নারীদের সম্মান ও দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “মায়েরা আমাদের মাথার তাজ। তাদের সর্বোচ্চ সম্মান দিতে হবে।” তিনি অভিযোগ করেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তবে এতে লাভ হবে না—বরং যারা অপপ্রচারে লিপ্ত, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ক্ষমতার রাজনীতি নিয়ে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসার রাজনীতি করে না; তাদের লক্ষ্য ১৮ কোটি মানুষের ক্ষমতায়ন। “আমরা দলীয় সরকারের রাজত্ব, পরিবারতন্ত্র চাই না। আমরা চাই ১৮ কোটি মানুষের সরকার,”—বলেন তিনি। আগামী ১৩ তারিখ থেকে ‘নতুন বাংলাদেশ’ দেখতে চাইলে ১১ দলীয় জোটকে ক্ষমতায় আনার আহ্বানও জানান তিনি।

গত ৫৪ বছরের উন্নয়ন নিয়ে মূল্যায়নে জামায়াত আমির বলেন, দেশে কিছু উন্নয়ন হয়নি—এ কথা বলা ভুল। তবে সম্ভাবনার তুলনায় উন্নয়ন কম হয়েছে, কারণ ভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভোটের পর ভুলে যাওয়া হয়েছে। জুলাইয়ের আন্দোলনের স্লোগান স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “উই ওয়ান্ট জাস্টিস—তোমার পাওনা তুমি নাও, আমার পাওনা আমাকে দাও।”

ছাত্ররাজনীতির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনে দেশের অতি শিক্ষিত ছাত্রছাত্রীরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে—তারা চাঁদাবাজদের পক্ষে নেই। যারা টাকা দিয়ে ভোট কিনতে চায়, তারা মানুষ নামের কলঙ্ক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে জামায়াত আমির চট্টগ্রাম উত্তরের সাতটি সংসদীয় আসনে প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। জনসভা জুড়ে তাঁর বক্তব্যে ভোটাধিকার, ন্যায়বিচার ও জনগণের ক্ষমতায়নের বার্তাই প্রাধান্য পায়—যা আসন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন