• মঙ্গলবার , ১৪ জুলাই, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগের নেতা ভারতীয় রাজাকার: শামীম সাঈদী

আওয়ামী লীগের নেতা ভারতীয় রাজাকার: শামীম সাঈদী

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬:১৮ ২৫ অক্টোবর ২০২৫

ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে মাওলানা শামীম (মো: শামীম বিন সাঈদী) সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা ও রাজনৈতিক এজেন্ডা উপস্থাপন করেন। তিনি বক্তৃতায় দাবি করেন, তার পিতা—আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী—কে হত্যা করা হয়েছে এবং এখন সেই হত্যার “প্রতিশোধ নেওয়ার সময়” এসেছে। পাশাপাশি তিনি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করে তাদের ‘ভারতের রাজাকার’ আখ্যা দেন।

শামীম সাঈদী বলেন, জামায়াতে ইসলামের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ ও আশঙ্কা উঠে তা ভিত্তিহীন। তিনি আরও বলেন, জামায়াতের কাউকে পাকিস্তান বা ভারতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই; বরং তাদের উদ্বুদ্ধ হতে হবে এই মাটিতে দাঁড়িয়ে লড়াই করার জন্য। সেই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, “গুলি এলে আমরা বুক পেতে দেব—এদেশই আমাদের শেষ ঠিকানা, এখানেই আমাদের কবর হবে।” এই বক্তব্য স্থানীয় সমাবেশের ভিডিও ও সংবাদখাতে সম্প্রচারিত হয়েছে।

বক্তৃতার এক পর্যায়ে শামীম আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগের অনেক নেতার ব্যবসা-বাড়ি ও সম্পদের যোগসূত্র ভারতের সঙ্গে রয়েছে, তাই তিনি তাদের ‘ভারতের রাজাকার’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে দাড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এবং আসন্ন নির্বাচনকে “ইসলাম রক্ষার লড়াই” ও “ভারতীয় আগ্রাসন থেকে মুক্তির লড়াই” হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

শামীম তার ব্যক্তিগত ব্যথা ও পরিবারের শোককেও বারবার স্মরণ করেন। তিনি জানান, তার পিতা কোরআনের দাওয়াত নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন; সেই কারণে তাকে নানাবিধ নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে এবং পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে হত্যার মতো ঘটনা ঘটে। তার এই ঘোষণাকে সমাবেশে উপস্থিত সমর্থকরা উচ্ছ্বাস ও স্লোগানে সমর্থন জানান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জামায়াতি নেতাদের এ ধরনের তীব্র ভাষা ও প্রতিশ্রুতি নির্বাচনী পরিবেশে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে যখন বক্তব্যে প্রতিশোধমূলক বা সশস্ত্র ইঙ্গিত থাকে, তখন স্থানীয়ভাবে সুরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন হতে পারে।

এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন বা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি না আসায় প্রতিবেদনে প্রধান তথ্যগুলো মূলত সমাবেশে ব্যবহৃত বক্তব্য এবং স্থানীয় সংবাদসংস্থার রিপোর্ট থেকে নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন