• রবিবার , ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ২৯ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মামলার জন্য জব্দ রক্তমাখা পোশাক, নির্যাতনের চেয়ার যাবে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে

মামলার জন্য জব্দ রক্তমাখা পোশাক, নির্যাতনের চেয়ার যাবে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪:৫৭ ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জব্দ করা রক্তমাখা পোশাক, নির্যাতনের চেয়ারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলামত এক মাসের জন্য ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এ প্রদর্শিত হবে। এসব আলামতের মধ্যে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় নিহত ও আহত ব্যক্তিদের ব্যবহৃত রক্তাক্ত পোশাক, নির্যাতনে ব্যবহৃত চেয়ার এবং অন্যান্য ভয়াবহ উপকরণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা সেই সময়ের নির্মমতার সাক্ষ্য বহন করে।

বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ এসব আলামত স্মৃতি জাদুঘরে প্রদর্শনের অনুমতি দেন। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

আদালতের আদেশের পর ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম। তিনি জানান, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গণভবনকে ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং এর প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ২০ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে জাদুঘরটি উদ্বোধন করা হবে। জাদুঘর কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রসিকিউশনের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হয় এবং আজ সেই অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম আরও বলেন, ট্রাইব্যুনাল নির্দিষ্ট একটি তারিখ থেকে এক মাসের জন্য এসব আলামত প্রদর্শনের অনুমতি দিয়েছেন। নির্ধারিত সময় শেষে আলামতগুলো আবার ট্রাইব্যুনালের হেফাজতে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।

তিনি জানান, ট্রাইব্যুনালে যেসব মামলা ইতোমধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে অথবা বর্তমানে বিচারাধীন, সেসব মামলায় জব্দ করা আলামতই জাদুঘরে প্রদর্শিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে গুলি, অস্ত্র, রক্তমাখা পোশাক এবং নির্যাতনে ব্যবহৃত চেয়ারসহ অন্যান্য উপকরণ, যা জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বাস্তব চিত্র তুলে ধরবে।

উল্লেখ্য, রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত গণভবনকে জুলাই গণ–অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তর করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ভবনেই বসবাস করতেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর উল্লসিত জনতা গণভবনে প্রবেশ করে। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতি সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এই সরকারি ভবনকে জাদুঘরে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন