শেখ মুজিবসহ ৪ শতাধিক নেতার মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি বাতিল


প্রকাশিত: ০১:৫৪ ৪ জুন ২০২৫
শেখ মুজিবুর রহমান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদসহ ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী প্রায় চার শতাধিক রাজনীতিবিদের (তৎকালীন এমএনএ ও এমপিএ) মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি বাতিল করে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে নতুন একটি অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। মঙ্গলবার রাতে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিভাগ থেকে এই অধ্যাদেশ জারি করা হয়। নতুন এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী, তাদের আর ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ বলা যাবে না, বরং তারা ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ হিসেবে পরিচিত হবেন।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, প্রবাসী সরকারের নেতৃবৃন্দ, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী-কর্মী, বিদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠনে ভূমিকা রাখা পেশাজীবী, স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের খেলোয়াড়, মুজিবনগর সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দূতাবাস সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় বাতিল করা হয়েছে। এর পরিবর্তে তাদেরকে ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অথচ জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন ২০২২ অনুযায়ী এদের সবাইকে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল।
অধ্যাদেশে মুক্তিযোদ্ধার নতুন সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, শুধুমাত্র তারাই ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে গণ্য হবেন, যারা ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কালে দেশের অভ্যন্তরে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছেন, প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন, ভারতের বিভিন্ন ক্যাম্পে গিয়ে নাম নিবন্ধন করেছেন এবং সরাসরি সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। সেই সঙ্গে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে লড়েছেন। এর পাশাপাশি নারী নির্যাতনের শিকার ‘বীরাঙ্গনা’ ও ফিল্ড হাসপাতালের চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত ডাক্তার, নার্স এবং চিকিৎসা সহকারীরাও ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
নতুন সংজ্ঞায় ‘মুক্তিযুদ্ধ’ বলতে বোঝানো হয়েছে: ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা, সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরিচালিত সশস্ত্র সংগ্রাম।
এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি বাতিল করায় সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে হতাশা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এ অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে এটি দ্বিতীয়বার সংশোধনের পর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে চূড়ান্ত করা হয়।
বিজ্ঞাপন
সর্বোচ্চ পঠিত - জাতীয়
- অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি পেতেই জামায়াত জোটে আসিফ: রাশেদ খাঁন
- দেশে ফিরেই আওয়ামী লীগকে লজ্জার রাজনীতি না করার বার্তা বাঁধনের
- জামানত ছাড়াই ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক, পাবেন যেসব তরুণ উদ্যোক্তা
- নাকভির হাত থেকে ট্রফি না নেওয়ার কারণ জানাল ভারত
- দোতলা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নির্মাণ করছে উত্তর কোরিয়া
- উত্তরা থেকে জামালপুর আওয়ামী লীগ নেতা শাহীনুজ্জামান গ্রেপ্তার
- ডেভিড ইমনের সহযোগী ‘ডাবা হারুন’ গ্রেপ্তার
- যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আনার লক্ষ্য সরকারের
- ১০ মাস পর ঢাকায় ফিরছে কাভিশ, সঙ্গে শিরোনামহীন ও মেঘদল
- ইসলামের নামে যারা সমাজে ঘৃণা ছড়ায়, তারা সর্বোচ্চ মাসুদ হওয়ার যোগ্য
- রাজ্জাক দেওয়ান স্মরণে গাইবেন বগা তালেবসহ ১৫ শিল্পী
- মক্কা প্যাক্টে যোগদান বাংলাদেশের নিজস্ব বিষয়: জামায়াত আমির
- টেস্টোস্টেরন পরীক্ষায় কি লিঙ্গ নির্ধারণ সম্ভব? জানুন বিজ্ঞান কী বলে
- ভারতে ‘ভূত আতঙ্কে’ হোস্টেল ছাড়ল ৬০০ শিক্ষার্থী, চিকিৎসকদের ভিন্ন ব্যাখ্যা
- হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে ইরান
- ডা. তাসনিম জারা: শিক্ষা, ক্যারিয়ার ও রাজনীতি
- এনবিআর ভেঙে দুটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী
- ফের ‘জান্নাত’ নিয়ে আসছেন ইমরান হাশমি, আসছে ‘জান্নাত ৩’
- পাকিস্তানের হাসপাতালে এসি বিস্ফোরণ, ১৫ নবজাতকের মৃত্যু
- আখ চাষে বদলাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য, খুলছে বাড়তি আয়ের পথ




