• মঙ্গলবার , ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ৩১ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর এবার সামরিক হামলার ছক কষছে ট্রাম্প প্রশাসন

সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর এবার সামরিক হামলার ছক কষছে ট্রাম্প প্রশাসন

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪:৫৯ ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও ব্যাপক প্রাণহানির প্রেক্ষাপটে দেশটির বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের হুমকি জোরালো করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তেহরানকে চাপে রাখতে কূটনীতির পাশাপাশি ‘বিমান হামলা’সহ একাধিক সামরিক বিকল্প সক্রিয়ভাবে বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের বলেন, কূটনীতি বরাবরই ওয়াশিংটনের প্রথম পছন্দ। তবে কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারে কোনো দ্বিধা করবেন না। তার ভাষায়, সম্ভাব্য সামরিক হামলার বিষয়টি বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশলগত আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।

গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন-পীড়নে কয়েক শ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি কর্তৃপক্ষ এই পরিস্থিতিকে ‘দাঙ্গা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে দাবি করছে, এতে বহু নিরাপত্তা সদস্যও নিহত হয়েছেন। তবে বিক্ষোভকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি, যার মধ্যে শত শত সাধারণ নাগরিক রয়েছেন।

দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় হতাহতের প্রকৃত চিত্র স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না। ট্রাম্প প্রশাসন এই পরিস্থিতিকে ইরান সরকারের ব্যর্থতা ও দমননীতির উদাহরণ হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন বোমা হামলার পর থেকেই ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্ক চরম উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নতুন করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দমনে ইরানের কঠোর অবস্থানকে সম্ভাব্য সামরিক হামলার একটি বড় ‘অজুহাত’ হিসেবে দেখছে ট্রাম্প প্রশাসন।

তবে আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে সার্বভৌম কোনো দেশের ওপর সামরিক হামলা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। এদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ প্রশাসনের একটি অংশ ট্রাম্পকে সামরিক পথ এড়িয়ে কূটনৈতিক সংলাপে ফেরার পরামর্শ দিচ্ছেন।

এরই মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের নেতারা আলোচনার প্রস্তাব নিয়ে তাকে ফোন করেছিলেন। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি বলেন, প্রকাশ্যে কঠোর বক্তব্য দিলেও ব্যক্তিগত আলোচনায় ইরান অনেক বেশি নমনীয় অবস্থান দেখাচ্ছে।

বর্তমানে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান এই স্নায়ুযুদ্ধ শেষ পর্যন্ত সামরিক সংঘাতে রূপ নেয়, নাকি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হয়—সেটিই এখন বিশ্ব রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

বিজ্ঞাপন