• মঙ্গলবার , ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ৩১ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১২ ঘণ্টার ব্যবধানে ৯ বার ভূমিকম্প, পাক-ভারত সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক

১২ ঘণ্টার ব্যবধানে ৯ বার ভূমিকম্প, পাক-ভারত সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:১৩ ৯ জানুয়ারী ২০২৬

দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানে দফায় দফায় ভূমিকম্পে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ভোরে পাকিস্তানে ৫ দশমিক ৮ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল তাজিকিস্তান-শিনজিয়াং সীমান্তবর্তী অঞ্চল।

পাকিস্তানের আবহাওয়া বিভাগ (পিএমডি) জানিয়েছে, ভোরে সংঘটিত এই ভূমিকম্পটি ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১৫৯ কিলোমিটার গভীরে সৃষ্টি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, এর প্রভাব পাকিস্তান ছাড়াও তাজিকিস্তান, চীন ও আফগানিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে অনুভূত হয়েছে।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, রাজধানী ইসলামাবাদ ও খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রবল কম্পন অনুভূত হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এখন পর্যন্ত এই ভূমিকম্পে কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে পাকিস্তান তিনটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় দেশটিকে অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে দেশটিতে যথাক্রমে ৫ দশমিক ৫ ও ৩ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছিল।

একই সময়ে ভারতের গুজরাট রাজ্যেও ঘন ঘন ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। ভারতের আবহাওয়া বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে রাজ্যের রাজকোট জেলায় মোট ৯টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়।

রিখটার স্কেলে এসব কম্পন ‘মাইক্রো’ ও ‘মাইনর’ শ্রেণিভুক্ত হওয়ায় কোনো জানমালের ক্ষতির খবর না থাকলেও এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। ভূমিকম্পগুলোর উৎপত্তিস্থল ছিল রাজকোটের উপলেতা শহরের উত্তর-পশ্চিমে প্রায় ২৭ থেকে ৩০ কিলোমিটার গভীরে।

বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৪৩ মিনিটে প্রথম কম্পন অনুভূত হয় এবং শুক্রবার সকাল ৮টা ৩৪ মিনিটে সর্বশেষ দফার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা অল্প সময়ের ব্যবধানে রাজকোটে এতগুলো ভূমিকম্পকে ‘অস্বাভাবিক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সাধারণত গুজরাটের কচ্ছ অঞ্চলে ভূকম্পনের প্রবণতা বেশি থাকলেও রাজকোটে ধারাবাহিক এই কম্পন নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ভারত ও পাকিস্তানে একযোগে এই ভূমিকম্পের ঘটনায় দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলজুড়ে ভূমিকম্প প্রতিরোধ, প্রস্তুতি ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থার গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট আবহাওয়া দপ্তরগুলো জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য পরবর্তী কম্পনের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক রাখা হয়েছে।

সূত্র: ডন, ইন্ডিয়া টুডে

বিজ্ঞাপন