পশ্চিম তীরে আরও ১৯টি বসতির অনুমোদন দিলো ইসরায়েল


প্রকাশিত: ০৮:৫৫ ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে আরও বড় বাধা সৃষ্টি করলো ইসরায়েল। আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করে অধিকৃত পশ্চিম তীর অঞ্চলে নতুন করে ১৯টি ইহুদি বসতি স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে দেশটি। ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি রাজনীতিক ও বর্তমান অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ বিবিসিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্মোতরিচ জানান, তিনি এ বিষয়ে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজের কাছে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন এবং গতকাল সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন পায়। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটকে আরও গভীর করবে এবং শান্তি প্রক্রিয়াকে বড় ধরনের ধাক্কা দেবে।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের কোনো বসতি স্থাপনই অবৈধ হিসেবে বিবেচিত। তবুও দীর্ঘদিন ধরে এই আইনকে উপেক্ষা করে ধাপে ধাপে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল করে চলেছে ইসরায়েল। নতুন এই ১৯টি বসতির অনুমোদন সেই দখলদারিত্বের ধারাবাহিক সম্প্রসারণেরই অংশ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখলদারিত্বমূলক কার্যক্রমের ধারাবাহিক বিস্তার একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে প্রস্তাবিত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের গঠনকে গুরুতর হুমকির মুখে ফেলছে।
এদিকে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরবও এই সিদ্ধান্তের কঠোর নিন্দা জানিয়েছে। দেশটি জানিয়েছে, এ ধরনের পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও শান্তির সম্ভাবনাকে আরও দুর্বল করে তুলবে।
প্রসঙ্গত, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে গত কয়েক বছরে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২২ সালের শেষ দিকে সরকার গঠনের পর থেকে প্রায় তিন বছরে পশ্চিম তীরে ইহুদি আবাসন বা বসতির সংখ্যা ১২৮টি থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৮টিতে। অর্থাৎ নেতানিয়াহুর আমলে বসতি স্থাপনের হার বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ।
এই পরিসংখ্যান নতুন ১৯টি বসতি অনুমোদনের আগের হিসেব। সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে গত তিন বছরে পশ্চিম তীরে অনুমোদিত নতুন ইসরায়েলি বসতির সংখ্যা আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্মোতরিচ আরও বলেন, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকার ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণাকেই পুরোপুরি ‘কবর দেওয়ার’ পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে।
ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বসতি স্থাপনবিরোধী ইসরায়েলি সংগঠন পিস নাও-এর তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতির সংখ্যা প্রায় ১৬০টি। এসব বসতিতে বসবাস করছেন আনুমানিক ৭ লাখ ইসরায়েলি নাগরিক। নতুন বসতি অনুমোদনের ফলে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতকে আরও দীর্ঘায়িত ও জটিল করে তুলতে পারে।
বিজ্ঞাপন
সর্বোচ্চ পঠিত - আন্তর্জাতিক
- অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি পেতেই জামায়াত জোটে আসিফ: রাশেদ খাঁন
- দেশে ফিরেই আওয়ামী লীগকে লজ্জার রাজনীতি না করার বার্তা বাঁধনের
- জামানত ছাড়াই ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক, পাবেন যেসব তরুণ উদ্যোক্তা
- নাকভির হাত থেকে ট্রফি না নেওয়ার কারণ জানাল ভারত
- দোতলা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নির্মাণ করছে উত্তর কোরিয়া
- উত্তরা থেকে জামালপুর আওয়ামী লীগ নেতা শাহীনুজ্জামান গ্রেপ্তার
- ডেভিড ইমনের সহযোগী ‘ডাবা হারুন’ গ্রেপ্তার
- যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আনার লক্ষ্য সরকারের
- ১০ মাস পর ঢাকায় ফিরছে কাভিশ, সঙ্গে শিরোনামহীন ও মেঘদল
- ইসলামের নামে যারা সমাজে ঘৃণা ছড়ায়, তারা সর্বোচ্চ মাসুদ হওয়ার যোগ্য
- রাজ্জাক দেওয়ান স্মরণে গাইবেন বগা তালেবসহ ১৫ শিল্পী
- মক্কা প্যাক্টে যোগদান বাংলাদেশের নিজস্ব বিষয়: জামায়াত আমির
- টেস্টোস্টেরন পরীক্ষায় কি লিঙ্গ নির্ধারণ সম্ভব? জানুন বিজ্ঞান কী বলে
- ভারতে ‘ভূত আতঙ্কে’ হোস্টেল ছাড়ল ৬০০ শিক্ষার্থী, চিকিৎসকদের ভিন্ন ব্যাখ্যা
- হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে ইরান
- ডা. তাসনিম জারা: শিক্ষা, ক্যারিয়ার ও রাজনীতি
- ফের ‘জান্নাত’ নিয়ে আসছেন ইমরান হাশমি, আসছে ‘জান্নাত ৩’
- এনবিআর ভেঙে দুটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী
- আখ চাষে বদলাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য, খুলছে বাড়তি আয়ের পথ
- পাকিস্তানের হাসপাতালে এসি বিস্ফোরণ, ১৫ নবজাতকের মৃত্যু




