• বৃহস্পতিবার , ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ১ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিল্লির নাম পরিবর্তন করে ইন্দ্রপ্রস্থ’ করার দাবি বিজেপি সাংসদের

দিল্লির নাম পরিবর্তন করে ইন্দ্রপ্রস্থ’ করার দাবি বিজেপি সাংসদের

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪:২৬ ১ নভেম্বর ২০২৫

ভারতের রাজধানী দিল্লির নাম পরিবর্তনের দাবি উঠেছে বিজেপির ভেতর থেকেই। দলের সংসদ সদস্য প্রবীণ খন্ডেলওয়াল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে চিঠি দিয়ে রাজধানীর নাম ‘দিল্লি’ থেকে ‘ইন্দ্রপ্রস্থ’ করার প্রস্তাব জানিয়েছেন।

প্রবীণ খন্ডেলওয়াল ২০২৪ সালে চাঁদনি চক আসন থেকে লোকসভায় নির্বাচিত হন এবং ২০১৭ সালে জিএসটি কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দিল্লির নাম পরিবর্তনের এই দাবি তুলছেন, তবে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে উপস্থাপন করলেন।

চিঠিতে তিনি লিখেছেন, “আমাদের শিকড়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাজধানীর নাম হওয়া উচিত ইন্দ্রপ্রস্থ। এটি কেবল নাম পরিবর্তন নয়, বরং ভারতীয় সভ্যতার ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের প্রতীক।”

সাংসদ আরও জানিয়েছেন, দিল্লির নাম পরিবর্তনের পাশাপাশি মহাভারতের পঞ্চপাণ্ডবদের একটি বিশাল মূর্তি স্থাপন করারও আবেদন জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, এই উদ্যোগ ভারতের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত শিকড়কে প্রতিফলিত করবে এবং নতুন প্রজন্মকে অতীত ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করবে।

প্রবীণ খন্ডেলওয়াল কেবল অমিত শাহ নয়, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত এবং অন্যান্য মন্ত্রীদেরও একই দাবি জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, “দিল্লির ইতিহাস হাজার বছরের নয়, বরং এটি ভারতীয় সভ্যতার আত্মা। ইন্দ্রপ্রস্থের উজ্জ্বল সংস্কৃতি, যা পাণ্ডবরা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেই ঐতিহ্যের ওপর দাঁড়িয়ে আছে আজকের দিল্লি।”

তিনি লিখেছেন, “ইন্দ্রপ্রস্থের পবিত্র ভূমিতে পাণ্ডবদের মূর্তি স্থাপন করলে ভারতের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের পুনর্জাগরণ ঘটবে। নতুন প্রজন্ম পাণ্ডবদের ন্যায়পরায়ণতা, সাহসিকতা ও মূল্যবোধের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে।”

বিজেপি সাংসদের মতে, দিল্লি শুধুমাত্র একটি আধুনিক মহানগর নয়, বরং এটি ভারতীয় সভ্যতার আত্মা। তাই প্রয়াগরাজ, অযোধ্যা, উজ্জয়িনী ও বারাণসীর মতো দিল্লিকেও তার প্রাচীন শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত করা উচিত। তিনি বলেন, “দেশকে তার আসল ঐতিহাসিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা এবং সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয় পুনরুদ্ধারই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।”

প্রবীণ খন্ডেলওয়াল আরও যুক্তি দেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাংস্কৃতিক নবজাগরণের দৃষ্টিভঙ্গির আওতায় ইতিমধ্যেই অযোধ্যা, কাশী ও প্রয়াগরাজে ঐতিহাসিক পুনরুত্থান ঘটেছে। তাহলে দিল্লি কেন নয়?

তাঁর মতে, “দিল্লির নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বোঝানো যাবে যে ভারতের রাজধানী শুধু ক্ষমতার কেন্দ্র নয়, বরং এটি ধর্ম, মূল্যবোধ ও জাতীয়তাবাদের প্রতীক।”

বিজ্ঞাপন